ঢাকা, ২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার, ২০২১ || ১০ কার্তিক ১৪২৮
 নিউজ আপডেট:

‘সেকেন্ড ওয়েভ সামলানোর আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশের করোনাযোদ্ধাদের আছে’

ক্যাটাগরি : করোনা প্রকাশিত: ৭৯৩৬ঘণ্টা পূর্বে


‘সেকেন্ড ওয়েভ সামলানোর আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশের করোনাযোদ্ধাদের আছে’

করোনাকালের প্রথম ঢেউ বাংলাদেশের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা শক্তহাতে সামলেছেন। অন্যান্য পেশাজীবীরাও নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করেছে। এতে হয়তো তাদের বেশিরভাগই ভীষণ শারীরিক-মানসিক-আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন বাংলাদেশের করোনাযোদ্ধারা। সেটাই সেকেন্ড ওয়েভ সামলাতে সাহায্য করবে। বললেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: এমএইচ চৌধুরী লেলিন।

শনিবার রাতে ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট এন্ড ডেভলপমেন্ট (আইইডি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি'র (ইউএনডিপি) যৌথ আয়োজিত ডাইভারসিটি টকসে এসব কথা বলেন তিনি। সাংবাদিক মুন্নি সাহার সঞ্চালনায় 'করোনাকালে মানবিক উদ্যোগের কারিগরেরা' শীর্ষক আলোচনাটিতে করোনাকালে মানবিক সহায়তায় অবদান রাখা ডা: এম এইচ লেলিন চৌধুরী ছাড়াও আরও ৫ করোনাযোদ্ধা অংশ নেন।

তারা হলেন গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার শামসুন্নার পিপিএম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান সৈকত, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী সালমান বিন ইয়াসিন, দৈনিক দেশ রূপান্তরের ফটোসাংবাদিক হারুন অর রশিদ রুবেল এবং বাংলাদেশ হুইলচেয়ার ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মহসিন।

ডা: এম এইচ চৌধুরী লেলিন আরও বলেন, করোনাকালের শুরুতে অনেক হাসপাতাল বন্ধ হয়েছে। ওই সময়কালে কি ক্ষতি হবে, সেটা বিবেচনা করিনি। আমরা মনে করেছি, এটাই আমাদের প্রথম পেশাগত দায়িত্ব। মানবিক দায়িত্ব তো বটেই।

তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আমরা হাসপাতালে রোগী ভর্তি করেছি। সেবা দিয়েছি। এতে আমাদের অর্ধেকের বেশি চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। আর্থিক ক্ষতি তো হয়েছেই। কিন্তু এই লড়াইয়ে আমরা আমত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি।

তিনি বলেন, করোনার ভ্যাকসিন এলেও এখনকার যে বাস্তবতা, এটা সত্য কথা যে, আমাদের আগামী জীবন করোনা নিয়েই চলতে হবে।  কিন্তু এটাও সত্য, এখান থেকে মুক্তির একটা পথ আমরা ঠিকই বের করতে পারবো।

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, করোনা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত করেছে। দরিদ্র মানুষের রুটি-রুজি কেড়ে নিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় করা একা সম্ভব নয়।  সব পেশার সব মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী সালমান খান ইয়াসিন বলেন, মানুষের অর্থায়নেই চলে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। মানুষ এগিয়ে এসেছে বলেই বিদ্যানন্দ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছে।

তিনি  বলেন, এমন সংকটের দিনে বিপদে পড়া মানুষ যখন চোখে অন্ধকার দেখছে, তখন আমরা বসে থাকতে পারিনি। আমরা জানি, ছিন্নমূল মানুষরা দৈনিক দুবেলা আহার জোগাড় করতেই হিমশিম খান, সেখানে করোনার এই দিনে কাজহীন অবস্থায় তারা আরও বিপদে পড়বেন, এটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, আমরা মনে করেছি, দ্রুততম সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কিছু মানুষ আমাদের দেয়া খাবার নিয়ে যদি তাদের পরিবার নিয়ে পেটপুরে খেতে পারেন, খেটে খাওয়া মানুষ যদি কিছুটা উপকার পান, এর চেয়া আর কী হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার ছিন্নমূল মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়া শিক্ষার্থী তানভীর হাসান সৈকত বলেন, মানুষের খাবারের প্রতি যে আকাঙ্ক্ষা সেটা বাস্তবতার মুখোমুখি না হলে বোঝানো যাবে না। আমরা টিএসসি থেকে শুরু করে রাজধানী ঘুরে ঘুরে দেখেছি খাবারের জন্য মানুষের হাহাকার। একজন অনাহারী মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার পর যে হাসি সেটা কোটি টাকার চেয়েও মূল্যবান।

তিনি বলেন, মানুষের সেবা করা ব্যক্তিগত তৃপ্তিবোধের বিষয়। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে পারলেই একটা অন্যরকম সুখ অনুভব করি। ভবিষ্যতেও আমি এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবো।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
Search
গাইবান্ধায় কিশোরী লিমা হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন  গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ধর্মপুর পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর মেধাবি ছাত্রী লিমা আক্তার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে  হত্যাকান্ডের পর থেকেই দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল,সড়ক অবরোধ সহ মানববন্ধন  করে আসছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।    বুধবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে  গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে ঘন্টাব্যাপী এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন, নারী মুক্তি আন্দোলনের সদস্য সচিব নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, শোভাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মামুন,নিহত লিমার বাবা আব্দুল লতিফ, বড় ভাই লিমন মিয়া, ছোট ভাই লিটু মিয়া, কামরুল ইসলাম, আহসান হাবীব,রিমা রিক্তার,পলি বর্মন,আব্দুল আহাদ, শাহাদাৎ হোসেন সিপার, মোস্তাফিজুর রহমান লাভলু, হিমুন দেব বিশ্ব সহ অন্যরা।   গত ২৩ সেপ্টেম্বর লিমা স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে যাওয়ার পথে স্থানীয় বখাটে শাকিল অপহরন করে নিয়ে যায়। পরে ১০ অক্টোবর চট্রগ্রাম ইপিজেড এলাকার শাকিলের মামা সোলায়মান আলীর ভাড়া বাসা থেকে লিমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় শাকিল ও তার মামা সোলায়মান আলীকে গ্রেপ্তার করা হলেও আসামী হাফিজুর রহমান, হৃদয় মিয়া, শাকিলের বাবা শহিদুল ইসলাম সহ অন্যান্যদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করে বিচার দাবি জানান বক্তারা।

গাইবান্ধায় কিশোরী লিমা হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ধর্মপুর পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর মেধাবি ছাত্রী লিমা আক্তার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে হত্যাকান্ডের পর থেকেই দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল,সড়ক অবরোধ সহ মানববন্ধন করে আসছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বুধবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে ঘন্টাব্যাপী এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন, নারী মুক্তি আন্দোলনের সদস্য সচিব নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, শোভাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মামুন,নিহত লিমার বাবা আব্দুল লতিফ, বড় ভাই লিমন মিয়া, ছোট ভাই লিটু মিয়া, কামরুল ইসলাম, আহসান হাবীব,রিমা রিক্তার,পলি বর্মন,আব্দুল আহাদ, শাহাদাৎ হোসেন সিপার, মোস্তাফিজুর রহমান লাভলু, হিমুন দেব বিশ্ব সহ অন্যরা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর লিমা স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে যাওয়ার পথে স্থানীয় বখাটে শাকিল অপহরন করে নিয়ে যায়। পরে ১০ অক্টোবর চট্রগ্রাম ইপিজেড এলাকার শাকিলের মামা সোলায়মান আলীর ভাড়া বাসা থেকে লিমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় শাকিল ও তার মামা সোলায়মান আলীকে গ্রেপ্তার করা হলেও আসামী হাফিজুর রহমান, হৃদয় মিয়া, শাকিলের বাবা শহিদুল ইসলাম সহ অন্যান্যদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করে বিচার দাবি জানান বক্তারা।


সারাদেশের সংবাদ