ঢাকা, ২৭ জুলাই মঙ্গলবার, ২০২১ || ১১ শ্রাবণ ১৪২৮

চাঁদপুর হরিনা ফেরীঘাটে ২ চাঁদাবাজ অটক

ক্যাটাগরি : বাংলাদেশ প্রকাশিত: ৮৯৪২ঘণ্টা পূর্বে


চাঁদপুর হরিনা ফেরীঘাটে ২ চাঁদাবাজ অটক

আলমগীর বাবুঃ চাঁদপুর সদর উজেলার হরিনা ফেরীঘাটটি বাংলাদেশের অন্যতম একটি ঘাট হিসেবে পরিচিত। বেশ কদিন আগে এই ঘাটের বিরুদ্ধে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা হয়। সেই প্রেক্ষিতে আজ আনুমানিক বেলা ১টায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০/২৫ জন পুলিশের একটি টীম অবৈধ চাঁদাবাজদের দখলদারিত্ব অপসারণের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে।


উক্ত অভিযান পরিচালনাকালে অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলনে হাতে নাতে আলমগীর চোকিদার ও জাহাঙ্গীর হোসেনকে আটক হয়। এসময় চাঁদাবাজদের রশিদ চেক করলে তারা কোথায় কত টাকা নিচ্ছে এ ধরণের কোন প্রকার প্রমান দিতে পারেনি। চাঁদাবাজদের আটকের পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে থেকে আসা মালবাহী ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপাররা এসে বলে স্যার আমরা আজকে ২ দিন ধরে বসে আছি আমাদের কাছ থেকে ওই লোকগুলো ৬/৭শ টাকা করে চাঁদা নিয়েছে কিন্ত আমাদের রশিদ দিয়েছে ৫০ টাকার। এসময় ড্রাইভাররা দাবী করেন আজ ২ দিন হলো কোন ফেরী পাই না। আমরা এখানের বসে থাকলে ঘাট ইজারাদার আমাদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৩শ টাকা আবার শ্রমিক ইউনিয়ন ৫০ টাকা করে আদায় করবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বিআইডব্লিউটির লোকজন এর সাথে জড়িত তারা সিন্ডিকেট করে দুই পাড়ের ফেরীগুলোকে দেরী করিয়ে ঘাট ত্যাগ করায় এর ফলে পরিবহনগুলো থেকে ওই সব চাঁদাবাজদের দিয়ে চাঁদা উত্তোলন করছে। যতদিন পর্যন্ত এ সিন্ডিকেট ভেঙ্গে না দেয়া হবে ততদিন পরিবহনগুলোর দূভোর্গ কমবে না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসময় বিআইডব্লিউটির কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত থেকেও যেনো বোবাচারণ করে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর বলেন, এখানে বিভিন্ন অভিযোগ আছে ট্রাকের ওয়েট যেটা মাপে, স্কেল সেটা আমরা দেখেছি সেটা ঠিক আছে, কিন্ত ওখানে থেকে রেজিষ্ট্রেশনবিহীন ট্যাংক লরী সংগঠনের নামে একটা চাঁদা তোলা হতো সেটা দেখলাম এবং একজনেকে আমরা স্পট থেকে গ্রেফতারও করলাম আমরা তাদের মানি রিসিপট জব্দ করেছি কিন্তু ওসব রশিদের কোন অস্তিত্ব নাই।


তিনি আরো বলেন, যারা ট্রাক ড্রাইভার আছেন এখানে শত শত হাজার ট্রাক ড্রাইভার তাদেরকে আমরা সচেতন করলাম পুলিশ কন্ট্রোল রুমের নাম্বার আছে, বিআইডব্লিউটি’র নাম্বার আছে এবং রেটচার্ট ঝুলানো হয়েছে। এই রেটচার্ট দেখে তারা যেন তাদের টার্মিনাল চার্জ, পার্কিং চার্জ দেয়। তাদেরকে বলেছি রশিদ ব্যাতিত একটা টাকাও যেন কাউকে তারা না দেয় কেউ যদি রশিদ ব্যাতিত টাকা চায় আমাদের কন্টোল রুমে কল দিবেন আমরা তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিবো।

এদিকে ওই চাঁদাবাজদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য একটি কুচক্রী মহলের তৎপরতার অভিযোগ পাওয়া যায়।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন: