ঢাকা, ১২ এপ্রিল সোমবার, ২০২১ || ২৯ চৈত্র ১৪২৭
 নিউজ আপডেট:

রনি ড্রাইভার থেকে শ্বরনংকর থেরো, লালসালুর একটি নতুন ভার্সন

ক্যাটাগরি : বাংলাদেশ প্রকাশিত: ৪১৬৫ঘণ্টা পূর্বে


রনি ড্রাইভার থেকে শ্বরনংকর থেরো, লালসালুর একটি নতুন ভার্সন

মোহাম্মদ হাসানঃ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক, প্রাক্তন পরিচ্ছন্ন ও মেধাবী ছাত্রনেতা রাঙ্গুনিয়া আদরের সন্তান আবু তৈয়বের ফেসবুক পোষ্ট থেকে তুলে নেয়া হুবাহু ---


মা-বাবার বিচ্ছেদের পর কিশোর রনির ঠাঁই হয় শুলক বহর পাঁচকড়ি বাবুর গ্যারেজে, গ্যারেজে থেকেই শিখেছিলেন গাড়ি ড্রাইভিং । তারপর রাউজান মুন্সিরহাটের এক গাড়ির মালিক তাকে প্রথম গাড়ির চাবি দিয়ে রাউজানে নিয়ে আসে।রাউজানে রনি ড্রাইভারের ড্রাইভিং জীবন বেশকিছুদিন স্থায়ী ছিল। তারপর গাড়ির মালিক গাড়িটি রাঙ্গুনিয়া পদুয়ার জয়সেন বড়ুয়া নামক এক ভদ্রলোকের কাছে বিক্রি করে দিলে রনি ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে প্রথম পদুয়া আসে এবং গাড়ির নতুন ড্রাইভার জসিমের(স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার আপেল আহমেদের মেয়ের জামাই)সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে। যেহেতু রনি ড্রাইভার বেকার সেহেতু জসিম ড্রাইভার তার অবর্তমানে গাড়িটির চাবি রনিকে দিয়ে বেকার সময়টাতে সহযোগীতা করতো। এভাবেই জসিমের করুণায় কিছুদিন যাওয়ার পরও নতুন জায়গায় কেউ রনিকে গাড়ি দেয়নি। তারপর শ্রমন হয়ে বৌদ্ধমন্দিরে সৈন্যাস জীবন শুরু করে শরণ ।


দ্বিতীয়বার সৈন্যসী হয়ে পদুয়ার ফলহরিয়া সংরক্ষিত বনে সৈন্যাস জীবন শুরু করেন এবং রনি নাম পাল্টিয়ে শরনাংকর থেরো নাম ধারণ করেন। দ্বিতীয়বার পদুয়াকে বেছে নেয়ার কারন হয়তো পদুয়ার মানুষের অতীতিপরায়নতা এবং অসাম্প্রদায়িকতা। 

প্রথমে হলুদ একটি কাপড় আর উপরে ত্রিপল দিয়ে শুরু করলেও পরে আসতে আসতে বেড়ার স্থাপনা, পরবর্তীতে ইটপাথরের স্থাপনা করা শুরু করেন এবং আসতে আসতে সাত-আট বছরের ব্যবধানে ১০০একরেরও বেশি জায়গা দখল করেন। এই সময়টাতে ফলাহারিয়া যাওয়ার দুর্গম রাস্তা সুগম হয় ,শিলক নদীর উপর ব্রীজ,কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ সহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে তাঁর কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রচার প্রসারের পাশাপাশি অনুদান প্রাপ্তির পরিমানও বাড়তে থাকে । তাঁর এসব কর্মকাণ্ডে প্রত্যেক্ষ সহযোগীতা করে টিটু বড়ুয়া,টুনটু বড়ুয়া, বিধু বড়ুয়ারা। যারা প্রত্যকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় তথ্যমন্ত্রী  ড.হাসান মাহমুদের ( Mohammed Hasan Mahmud ) এমপির পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের ব্যক্তিগত কর্মচারি।

 এই দখলযজ্ঞ চলতে থাকলে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় হিন্দুদের শ্বসান নিয়ে এবং বিহার থেকে ২.৫-৩ কিলোমিটার আগে কালিন্দিরানী সড়কে মুসলিমদের জায়গার উপর বৌদ্ধমূর্তিসমেত একটি তোরন স্থাপনকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের সাথে বিরুধে জড়িয়ে পরেন শরণংকর থেরো । দিনদিন দখলকৃত ভূমির আয়তন বাড়ানোর কারনে বনবিভাগের সাথেও বিরোধ বাজে শরণংকর থেরোর সাথে, ফলশ্রুতিতে বনবিভাগ মামলা দায়ের শুরু করে, প্রথম মামলা হয় ২২-১০-২০১৯ সালে মামলা নম্বর-পি. আর.ও.--- (১সুখ)/ ৬ খুরু অব ২০১৯-২০) এবং জি.আর-২৬ তাং ৩০-১০-২০১৯, যা উদ্ভোত ঘটনার অনেক আগে।

শরণংকর থেরোর এই অবৈধ দখলযজ্ঞে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে তার পাশে আশা করে এবং পাশে না পেয়ে শত্রু ভাবতে শুরু করে। ঠিক একইভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াকেও তার এই অবৈধ কর্মযজ্ঞে সহযোগী হিসেবে না পেয়ে শত্রু বিবেচনা  করছে। 

এই অবৈধ কাজে সমর্থন না পেয়ে বাংলাদেশ বৌদ্ধকৃষ্টি প্রচার সংজ্ঞের সভাপতি ভদন্ত বৌদ্ধপ্রিয়  মহথেরকে প্রতিপক্ষ ভাবছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে  অনলাইনে পেইড দালাল দিয়ে নানা কুৎসা ও অপবাদ রটাচ্ছে।


একটি যৌক্তিক বিবেচনায় শরণংকর থেরোকে লালসালু ছাড়া আর কিছুই মনে হবেনা ।


বিবেচনা করুন:-

১:- একটি বৌদ্ধবিহারে কতটুকু জায়গার প্রয়োজন ?নিশ্চয়ই ১০০ একরের বেশি জায়গা লাগার কথা নয়?


২:- অনধিক ৫০ জন মানুষের একটি বিহাড়ে ২৪টা  বৈদ্যুতিক সংযোগের প্রয়োজন কেন? 


৩:- মহারন্য নাম দিয়ে সংরক্ষীত বনাঞ্চল দখল করে কংক্রিটের জঙ্গল করে এই শো-অফের কারন কি এবং কেন?


আসল কারন একটাই তার ধর্মব্যবসার প্রচার-প্রসার।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন: