ঢাকা, ২৯ অক্টোবর শুক্রবার, ২০২১ || ১৩ কার্তিক ১৪২৮
 নিউজ আপডেট:

জয়কলস ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া : নৌকা চান ৫ প্রার্থী

ক্যাটাগরি : রাজনীতি প্রকাশিত: ৭৭৮৮ঘণ্টা পূর্বে


জয়কলস ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া : নৌকা চান ৫ প্রার্থী

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::     

মরণঘাতী করোনা ভাইরাস মহামারির শেষ কবে—বিশ্ব জুড়ে এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা হলেও এর মধ্যেই দেশে সময় ঘনিয়ে আসছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি-২০২১) নির্বাচনের। আইন অনুযায়ী আগামী বছরের মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের আগে ইউপি নির্বাচন শুরু করতে হবে, আর শেষ করতে হবে জুনের আগেই। এ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন কে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মাঝে চলছে জোর প্রচারণা। এরপর থেকেই দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের ৫ প্রার্থী। 
ধারনা করা হচ্ছে আগামী বছরের মার্চের প্রথম দিকেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক পেতে আওয়ামী লীগের ৫ নেতা ‘নড়াচড়া’ শুরু করেছেন।

নৌকার টিকিট পেতে এবারও চেষ্টা করবেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান জয়কলস ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদ মিয়া। তিনি বলেন,আমি গতবারও  নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়ী হয়ে ৫ বছর উন্নয়ন করেছি। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। শতভাগ আশাবাদী দল আমাকে এবারও নৌকা প্রতীক দেবে।

 আরেক প্রার্থী দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল বাছিত সুজন জানান, আমিও জয়কলস ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক চাই। আমি করোনাকালীন সময়েও সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম, এছাড়া গত কয়েক মাস ধরে মাঠ  চষে বেড়াচ্ছি, সমাজসেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছি। মানুষ পরিবর্তন চায়।  মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করতে ও নৌকার জয় নিশ্চিত করতে আমিও আশাবাদী দল আমাকে নৌকা উপহার দিবে।  

অপর প্রার্থী দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডুংরিয়া উত্তরণ ক্লাবের সভাপতি এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের আপন ভাতিজা মনিরুজ্জামান সুজন। এবারের জয়কলস ইউনিয়ন নির্বাচনে তিনিও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। দলীয় প্রতীক নৌকা পেতে ইতিমধ্যে তিনি প্রচার প্রচারণায় ও গণসংযোগে ব্যস্ততম সময় পার করছেন।

মনিরুজ্জামান সুজন জানান, সময় এখন বাংলাদেশের। সময় এখন তারুণ্যের। এই সময় শুধু নয়, ভবিষ্যতের সময়ও তারুণ্যের। ভবিষ্যতের বাংলাদেশও তরুণদের জন্যই। আর তারুণ্যের উপযোগী বর্তমান বিনির্মাণ করা গেলেই কেবল- ভবিষ্যত হবে বাংলাদেশের। জনপ্রতিনিধি থেকে সর্বত্র তরুণদের বিচরণ হোক! আমি প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ প্রকাশ করেছি তবে সবাই আমার জন্য দোয়া ও সহোযোগিতা করবেন।

এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক নেতা হাসান মাহমুদ তারেক। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনিও। এর আগেও তিনি একবার জযকলস ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহন করে অল্প ভোটে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তাঁর প্রত্যাশা এবার তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। তিনি জানান, নির্বাচন করতে এবার আমি মাঠে আছি। ইনশাআল্লাহ তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আমাকে বিবেচিত করবেন।

অপরদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। তিনিও গত ২ বছর থেকে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, এবার আমিও জয়কলস ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক চাই। তিনি আরও বলেন, জীবনের শুরু থেকে নৌকা প্রতীকের জন্য কাজ করছি। এলাকার মানুষজনও আমার সাথে রয়েছেন। আমি শতভাগ আশাবাদী নৌকা নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করলে দলকে জয় উপহার দিতে পারবো।


জয়কলস ইউনিয়নের সচেতনমহল মনে করেন, ভোট এসেছে, ভোট চলে যাবে। আমদের সবাইকে মিলেমিশে থাকতে হবে। যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই। তবে তরুণরাই নেতৃত্বে এগিয়ে আসুক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকেই নৌকা উপহার দেন আমরা তার পক্ষে আছি ও উন্নয়নের পক্ষে আছি। 

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের সাথে আলাপ হলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে আমরা কোন নির্দেশনা পাইনি। তবে শুনেছি জয়কলস ইউপি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এরমধ্যে থেকে আমরা যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীদের নামের তালিকা জেলায় পাঠাবো।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন: