ঢাকা, ২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার, ২০২১ || ১০ কার্তিক ১৪২৮
 নিউজ আপডেট:

চাঁদপুরে অন্যের খরিদা সম্পত্তি নিজের দাবি করে আদালতে মিথ্যা মামলাদায়ের

ক্যাটাগরি : বাংলাদেশ প্রকাশিত: ৯৫২ঘণ্টা পূর্বে


চাঁদপুরে অন্যের খরিদা সম্পত্তি নিজের দাবি করে আদালতে মিথ্যা মামলাদায়ের

আলমগীর বাবুঃচাঁদপুর প্রতিনিধিঃ চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮নং বাগাদি ইউনিয়নে এক দেউলিয়া ব্যক্তির ওয়ালী ওয়ারিশনরা বিভিন্ন কায়দায় প্রতারণা মুলকভাবে একটি পরিবারের
খরিদকৃত ভূমির মালিকানা দাবি করতঃ তাদের বসতঘর নিজের বলিয়া দাবী করে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে মনগড়া, বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।


ঘটনাটি ঘটে ৮নং বাগাদি ইউনিয়নের সাহেব বাজার এলাকার চাঁদপুর গ্রামে। ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্নসহ আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এতেও ওই পরিবারটি বিপদমুক্ত নন বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীগণরা।


ঘটনার বিবরণে ভুক্তভোগী হাজেরা বেগম জানান, গত ২৯ আগস্ট'১৯৯৩ ইং সালে  মজিবুল হক বেপারী, মহসিন বেপারী, তোফাজ্জল হোসেন বেপারী ও আবু তাহের  বেপারী  সর্বপিতা-মৃত আঃ হাই বেপারী একই বাড়ির মকবুল আহাম্মেদ বেপারীর নিকট সাবেক হাল ৪৫৭ দাগ (বর্তমান ৯৯৬) দাগে মোট সাড়ে ১৯ শতাংশ কৃষি (নাল) জমি চাঁদপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সশরীরে হাজির হয়ে তৎকালিন বাজার মূল্যে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করতঃ সাব কবলা দলিল করে নিঃশর্তবান হন। সে থেকে মকবুল হক বেপারী উক্ত কৃষি ভূমি ভোগদখল করেছেন। মকবুল হক বেপারীর খরিদকৃত ভোগদখলীয়  কৃষি ভূমি (নাল) পাঁচ বছর ভোগদখল করার পর গত ৫ নভেম্বর'১৯৯৭ সালে উক্ত কৃষি জমি (নাল) আমার নিকট বিক্রি করতঃ চাঁদপুর সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে সশরীরে হাজির হয়ে  তৎকালীন বাজার মুল্যে সাব কবলা দলিল করে দিয়ে নিঃশর্তবান হন। সে থেকে অদ্যবদি ( প্রায় ২৪ বছর) অর্থাৎ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আমি হাজেরা বেগম উক্ত কৃষি জমিটি (নাল) চাষাবাদসহ ভোগদখল করে আসছি। সমাজ সভ্যতার ব্যাপক পরিবর্তন হওয়াতে গত ১০-১২ বছর পূর্ব থেকে ওই কৃষি জমিটি (নাল)' আংশিক ভরাট করে একটি বসতঘর স্থাপন করে সেখানে অবস্থান করতঃ মাঝে মধ্যে সাধ্যানুযায়ী বালু ফেলে কৃষি জমিটির প্রায় ৯০ভাগ ভরাট করি। গত কয়েক মাস আগে আমার ছোট ছেলে ফয়সাল মোল্লা (প্রবাসী) উল্লেখিত ভূমিতে আরেকটি ঘর উত্তোলনের কাজ শুরু করলে এমন সময় কালাম বেপারির পক্ষে কিছু লোক এসে পেশি শক্তি প্রদর্শন করে সন্ত্রাসী কায়দায় আমাদের কাজে বাঁধা প্রদান করে আমাদের পরিবারের লোকজনকে প্রাণণাশের হুমকি দেয় । 

এরপর গত ৭ সেপ্টেম্বর'২১ খ্রিঃ মৃত আবুল কালামের স্ত্রী ছায়েরা বেগম বাদি হয়ে ( ৬৬৭/২০২১ ইং) নং মামলা মূলে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রার্থনা করেন। । সে মতে বিবাদিকে নোটিশ প্রাপ্তির এক সপ্তাহ বা ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন আদালত।

উল্লেখ্য  মৃত আঃ হাই বেপারির ৫ ছেলে যথাক্রমে, মজিবুল হক বেপারী, মহসিন বেপারী, তোফাজ্জল হোসেন বেপারী, আবু তাহের বেপারী ও মৃত আবুল কালাম বেপারি।   মৃত আবুল কালাম বেপারির জীবদ্দশায় তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করতঃ তার পিতা-মাতার ভরণপোষণসহ তাদের কোনো তত্ত্বতালাশ না নেয়া এবং পরিবারে অবাধ্য আচরণের জন্য তার পিতা মৃত আঃ হাই জীবিত থাকাকালীন সময়ে তাকে পৈত্রিক স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির কানাকড়িও না দিয়ে ৪ ছেলের বরাবরে দলিলমুলে হস্তান্তর করে দেন। সে মতে মৃত আবুল কালাম তার পৈত্রিক সম্পত্তির কানাকড়িও মালিক বা অংশীদার নন।

অন্যদিকে পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ না পাওয়ায় মৃত আবুল কালাম তার এক বোন ভল্লবের নেছার নামের স্থলে মাহমুদা বেগম নাম বসিয়ে জাল দলিল করে স্থানীয় সেলিম বেপারির নিকট ৬শতক জমি বিক্রি করে দেয়। ভল্লবের নেছার নামের স্থলে মাহমুদা বেগম নাম করনেঃ দলিল জাল জালিয়াতির কারণে সেলিম বেপারি জেল খাটেন এবং পরিশেষে খরিদকৃত সম্পত্তি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তিনি।

এব্যাপারে সেলিম বেপারি সাথে মৃত আবুল কালাম ভূয়া দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আঃ আবুল কালাম বেপারি মূলতঃ চিটার, সে আমার সাথে চিটারি করছে তার জন্য আমি জেল খাটছি। তার চিটারির কারণে তার পিতা তাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণাসহ তাকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে। এটা এলাকার সবার জানা। প্রকৃত পক্ষে মৃত আঃ কালামের কোনো সম্পত্তি এ এলাকায় নাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, মৃত আবুল কালাম তার পৈত্রিক সম্পত্তি কিছুই মালিক না। তার বাবা জীবিত থাকাকালীন সময়ে সব ৪ ছেলের বিরুদ্ধে লিখে দিয়ে যায়। তাছাড়া হাজেরা বেগম বিগত ২৪/২৫ বছর যাবত এ সম্পত্তি খরিদ করে ভোগদখল করছে। আর মৃত আবুল কালাম ৪০ বছর যাবত গ্রামে নাই একটি বসতিও নাই তার।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
আরও সংবাদ পড়ুন
Search
গাইবান্ধায় কিশোরী লিমা হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন  গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ধর্মপুর পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর মেধাবি ছাত্রী লিমা আক্তার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে  হত্যাকান্ডের পর থেকেই দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল,সড়ক অবরোধ সহ মানববন্ধন  করে আসছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।    বুধবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে  গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে ঘন্টাব্যাপী এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন, নারী মুক্তি আন্দোলনের সদস্য সচিব নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, শোভাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মামুন,নিহত লিমার বাবা আব্দুল লতিফ, বড় ভাই লিমন মিয়া, ছোট ভাই লিটু মিয়া, কামরুল ইসলাম, আহসান হাবীব,রিমা রিক্তার,পলি বর্মন,আব্দুল আহাদ, শাহাদাৎ হোসেন সিপার, মোস্তাফিজুর রহমান লাভলু, হিমুন দেব বিশ্ব সহ অন্যরা।   গত ২৩ সেপ্টেম্বর লিমা স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে যাওয়ার পথে স্থানীয় বখাটে শাকিল অপহরন করে নিয়ে যায়। পরে ১০ অক্টোবর চট্রগ্রাম ইপিজেড এলাকার শাকিলের মামা সোলায়মান আলীর ভাড়া বাসা থেকে লিমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় শাকিল ও তার মামা সোলায়মান আলীকে গ্রেপ্তার করা হলেও আসামী হাফিজুর রহমান, হৃদয় মিয়া, শাকিলের বাবা শহিদুল ইসলাম সহ অন্যান্যদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করে বিচার দাবি জানান বক্তারা।

গাইবান্ধায় কিশোরী লিমা হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ধর্মপুর পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর মেধাবি ছাত্রী লিমা আক্তার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে হত্যাকান্ডের পর থেকেই দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল,সড়ক অবরোধ সহ মানববন্ধন করে আসছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বুধবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে ঘন্টাব্যাপী এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন, নারী মুক্তি আন্দোলনের সদস্য সচিব নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, শোভাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মামুন,নিহত লিমার বাবা আব্দুল লতিফ, বড় ভাই লিমন মিয়া, ছোট ভাই লিটু মিয়া, কামরুল ইসলাম, আহসান হাবীব,রিমা রিক্তার,পলি বর্মন,আব্দুল আহাদ, শাহাদাৎ হোসেন সিপার, মোস্তাফিজুর রহমান লাভলু, হিমুন দেব বিশ্ব সহ অন্যরা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর লিমা স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে যাওয়ার পথে স্থানীয় বখাটে শাকিল অপহরন করে নিয়ে যায়। পরে ১০ অক্টোবর চট্রগ্রাম ইপিজেড এলাকার শাকিলের মামা সোলায়মান আলীর ভাড়া বাসা থেকে লিমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় শাকিল ও তার মামা সোলায়মান আলীকে গ্রেপ্তার করা হলেও আসামী হাফিজুর রহমান, হৃদয় মিয়া, শাকিলের বাবা শহিদুল ইসলাম সহ অন্যান্যদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করে বিচার দাবি জানান বক্তারা।


সারাদেশের সংবাদ