ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি রবিবার, ২০২১ || ১১ মাঘ ১৪২৭
 নিউজ আপডেট:

বৃক্ষের সাথে সখ্যতা প্রকৃতিপ্রেমী বৃক্ষ বন্ধু অধ্যাপক আকবর আলী আহসান

ক্যাটাগরি : বাংলাদেশ প্রকাশিত: ১৪৯৫ঘণ্টা পূর্বে   ১৬৫


বৃক্ষের সাথে সখ্যতা প্রকৃতিপ্রেমী  বৃক্ষ বন্ধু অধ্যাপক আকবর আলী আহসান

 


নুরুল আমিন ফুলপুর (ময়মনসিংহ):

 কেউ বলে বৃক্ষপ্রেমিক, কেউ বলে বৃক্ষ বন্ধু, ছোট ছেলে মেয়েদের কাছে পরিচয় বৃক্ষ স্যার। ছুটির দিনে বিনামূল্যে পরিচিত অপরিচিত জনের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা যেন তার নেশায় পরিনত হয়েছে। বলছি ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ আনন্দমোহন সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকবর আলী আহসান এর কথা। প্রিয়জন, ছাত্র, যুবক এমনকি শিশুদের মাঝেও বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করে ইতিমধ্যেই সকলের দৃষ্টি কেড়েছেন তিনি। ছুটির দিনে গাছের চারা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন নিজ এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে, নিজ হাতে বিতরণ করেন বিভিন্ন জাতের চারা গাছ।। গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান স্লোগান কে সামনে রেখে সবুজ ফুলপুর গড়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। গাছ লাগানো, গাছের যত্ন নেয়া, গাছের পরিচর্যা বর্ণনা করা যেন তার নেশায় পরিণত হয়েছে। বাড়ির খালি জায়গা, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, রাস্তার মোড়ে, জনসমাগম এলাকা হাট বাজারে গাছ লাগানোর জন্য কখনো একা, কখনো বন্ধুবান্ধব, কখনোবা ছাত্রদের নিয়ে গাছের চারা রোপণের ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় তাকে ।  চল্লিশোর্ধ বয়সী প্রকৃতি ও আড্ডাপ্রিয় এ মানুষটি ছোটবেলায় মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। বাল্যকাল থেকেই গাছ লাগানো তার নেশা। ফুলপুর উপজেলার সাবেক ফুলপুর ইউনিয়নের চর পাড়া গ্রামে এক সাধারণ পরিবারে তার জন্ম। তিনি বলেন প্রথম মায়ের কাছ থেকেই গাছ লাগানোর উদ্বুদ্ধ হন তিনি। বাড়ির পাশে রাস্তায় তার মায়ের লাগানো প্রায় অর্ধশতবর্ষী একটি কড়ুই গাছ এখনো কালের সাক্ষী হয়ে আছে বলেও জানান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বটগাছ, পাকড় গাছ, কাঁঠাল গাছ, কৃষ্ণচুড়া গাছ, ছাড়াও বজ্রপাত প্রতিরোধক অনেক তাল গাছের আটি লাগিয়েছেন তিনি। বিনামূল্যে চারাগাছ বিতরণে তিনি তার সাহিত্য পরিষদ কৃষক সমিতি ও অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের কাজে লাগান। তার আশা প্রিয় জন্মভূমি ফুলপুর একদিন আর বিতরণ করা গাছে ফুলে ফলে ভরে ওঠে সবুজ ফুলপুরে রুপ নিবে।  গাছের নিচে পথচারী ও কৃষক সে সব গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিবে। মহান সৃষ্টিকর্তা যদি আমাকে বাচিয়ে রাখে তবে  নিজ উপজেলা ছাড়াও আশপাশ উপজেলাতেও গাছের চারা বিতরণের আশা আছে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে দশ হাজার বিভিন্ন জাতের চারা সহ এক হাজার তালের আটি লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি তিনি জানান তার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দিতে উৎসাহিত হয়ে  স্থানীয় কবি আশরাফ সহ এলাকার অনেকেই  গাছের চারা বিতরন করেছেন । তিনি বলেন গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন প্রদান করে।  বিপদে বিক্রি করে অর্থ পাওয়া যায়  তাই বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের গাছ লাগানো উচিত। তিনি শুধু বৃক্ষ প্রেমিক নন, তিনি একজন সফল কৃষকও। গ্রামের বাড়িতে তিনি কৃষি খামার করে আদর্শ কৃষক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন গাছ মানুষের প্রকৃত বন্ধু গাছ কোনদিন বেইমানি করে না। প্রতিটি পরিবারে শিশুদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে  ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বৃক্ষপ্রেমিক হয়ে গড়ে উঠতে হবে, পরিবেশ রক্ষার জন্য  সকলকে সচেতন থাকতে হবে নিতে হবে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
আরও সংবাদ পড়ুন