ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি রবিবার, ২০২১ || ১১ মাঘ ১৪২৭
 নিউজ আপডেট:

ইজেডে ৩৯ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব

ক্যাটাগরি : বাংলাদেশ প্রকাশিত: ৫২৩ঘণ্টা পূর্বে   ২৪


ইজেডে ৩৯ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব

সবারকথা ডেস্ক|| করোনা মহামারির মধ্যেও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এর সুফল হিসেবে দুর্যোগের এই বছরেও অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইজেড) ৩৮ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বা ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। করোনার ভীতি উপেক্ষা করে উদ্যোক্তারা নানা প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। ইজেডে শিল্প স্থাপনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই বিনিয়োগের বেশিরভাগই দেশি উদ্যোক্তাদের। তবে বেশ কয়েকটি বিদেশি বড় বিনিয়োগ প্রস্তাবও এসেছে।

বেজা সূত্রে জানা যায়, দেশে গত মার্চে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। সদ্য বিদায়ী বছরে সরকারি ইজেড বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে মোট বিনিয়োগ এসেছে ৩৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার। বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৯টি বিদেশি ও যৌথভাবে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার। সরকারি ও বেসরকারি ইজেডে বিনিয়োগ প্রস্তাবের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। দেশি উদ্যোক্তারা প্রায় সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছেন। এই বিনিয়োগ প্রস্তাব ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছে বেজা গভর্নিং বোর্ড। এর বাইরেও আগের বছরে বেজায় আসা সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পর্যালোচনা চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে এসব বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন দেবে বেজার গভর্নিং বোর্ড।

জানা যায়, সরকারের ১০০ ইজেড স্থাপনের পরিকল্পনার মধ্যে বেজার গভর্নিং বোর্ড ইতোমধ্যে ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইজেড) স্থান নির্ধারণ ও জমির পরিমাণ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি ইজেড ৬৮টি এবং বেসরকারি ইজেড ২৯টি। এসব ইজেডের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের দুটি ইজেড, চারটি জিটুজি ইজেড হচ্ছে এবং ট্যুরজিম পার্ক রয়েছে তিনটি। ইতোমধ্যে পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর, মহেশখালী, শ্রীহট্ট, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে এ পর্যন্ত ১৭২টি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে ৭ হাজার ৩১৫ একর জমি ইজারা দিতে নির্বাচন করা হয়েছে। এতে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৩৯৭ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এছাড়া প্রায় ৩১০ কোটি মার্কিন ডলার বা ২৬ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে বেসরকারি ইজেডে। এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে সর্বমোট প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০৭ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে প্রায় ১০ লাখ লোকের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে। করোনাকালে সরকারি ইজেডে ১৩টি শিল্প স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি ইজেডে শিল্প স্থাপন হচ্ছে।

দুর্যোগের বছরে বিনিয়োগ নিয়ে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, করোনাকালে বিনিয়োগের এই পরিমাণ প্রমাণ করে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বিনিয়োগের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান। বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগের আদর্শ স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বিনিয়োগের এ প্রবাহ চলমান থাকলে নতুন বছরে বিনিয়োগকারীদের শিল্পে ব্যবহারে জমি দেওয়া চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি উলেল্গখ করেন, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর হবে আগামী বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের রাজধানী।

বিদায়ী বছরের চেয়ে নতুন বছরে আরও অনেক বেশি বিনিয়োগ আশা করে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, এখন অর্থনৈতিক অঞ্চল বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বহুমাত্রিক উন্নয়ন হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক সড়ক হয়েছে। নানা অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। এখন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের জন্য আরও বেশি আকৃষ্ট হবেন। বর্তমানে ১৩টি শিল্পের কারখানা স্থাপনে কাজ চলছে। নতুন বছরে ইজেডে আরও ২০ থেকে ২৫টি শিল্পের কারখানা স্থাপন হবে।
বেজার ইজেডে উদ্যোক্তাদের নজর শুধু এক খাতে নয়। তৈরি পোশাকসহ আরও ১০টি খাতে ৬৩টি কোম্পানির এই বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। সবচেয়ে বেশি এসেছে খাদ্য ও কৃষি খাতে ২৩ দশমিক ৪২ শতাংশ, এর পরেই বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ২০ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ইস্পাত খাতে ১৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, তৈরি পোশাকে ১৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ, কেমিক্যালে ১৩ দশমিক ৭১ শতাংশ, সিরামিকে ১ দশমিক ৪১ শতাংশ, হোটেল ও পর্যটনে দশমিক ৭৩ শতাংশ, ফার্মাসিউটিক্যালে দশমিক ৭১ শতাংশ, চামড়ায় দশমিক ২৬ শতাংশ, ইলেকট্রনিক্সে দশমিক ২৩ শতাংশ ও অন্যান্য খাতে ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ বিনিয়োগ এসেছে। 

করোনার বছরে বিদেশি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে এসেছেন। বিনিয়োগ প্রস্তাব আসা দেশগুলো এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্জার পেইন্টস, চীনের জিয়াসু ইয়াবাং ডাইস্টাফ কোম্পানি, জিয়ং মেডিক্যাল প্রডাক্ট, সিসিইসিসি বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার এইচএ টেক, ভারতের রামকি এনভারমেন্ট সার্ভিস, জার্মানির সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে ভারতের ফরটিস গ্রুপ, নেদারল্যান্ডসের লাইজার্ড স্পোর্স্ট বি. ডভ. এবং সিঙ্গাপুরের ইন্টার-এশিয়া গ্রুপ। করোনাকালে পিছিয়ে নেই দেশি উদ্যোক্তারাও। দেশি প্রস্তাবিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মেট্রো স্পিনিং, ম্যাকসনস স্পিনিং অ্যান্ড টেক্সটাইল, সামুদা ফুড প্রডাক্টস, উত্তরা মোটর্স, বিজিএমইএ, সায়মান বিচ রিসোর্ট, ম্যাফ সুজ, বিজিএপিএমইএ, এন. মোহাম্মদ প্লাস্টিক, ইফাদ অটোস, রানার মোটর্স, সাইফ পাওয়ারটেক, ডেল্টা ফার্মা, এশিয়া কম্পোজিট মিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। 

বেজা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ বাস্তবায়নে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ইজেডের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগ সহায়ক সেবা অনলাইনে চালু করেছে। সংস্থাটির ওয়ান স্টপ সার্ভিস থেকে ৪৮টি সেবা দিচ্ছে। চলতি মাসে আরও ৬টি সেবা অনলাইনে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জানুয়ারি মাসের শেষে বেজার ওএসএসে ৫৪টি সেবা পাবেন উদ্যোক্তারা।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
আরও সংবাদ পড়ুন