ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি রবিবার, ২০২১ || ১০ মাঘ ১৪২৭
 নিউজ আপডেট:

টিকা নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন এক ভাবনা

ক্যাটাগরি : করোনা প্রকাশিত: ৫২১ঘণ্টা পূর্বে   ৩০


টিকা নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন এক ভাবনা

সবারকথা ডেস্ক|| বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের নতুন সংক্রমণ ছড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, নতুন এই সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়ায়। করোনাভাইরাসের টিকার প্রয়োগ শুরু হয়েছে বেশ কয়েকটি দেশে। কিন্তু টিকা সহজলভ্য না থাকলে কী হবে তা নিয়ে ভাবছে যুক্তরাজ্য। 

দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের তৈরি টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার পর কেউ যদি দ্বিতীয় ডোজের টিকা না পান, সে ক্ষেত্রে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় ডোজের টিকা বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মিশ্র টিকা (মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ) প্রয়োগের কথা বলছেন তাঁরা।

নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের এ ধারণা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বলছে, করোনার মিশ্র টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়। তাদের মতে, টিকার দুটি ডোজের উৎপাদক একই হতে হবে।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জন মুরে বলেছেন, যুক্তরাজ্যের কয়েকজন বিজ্ঞানী জুয়া খেলার মতো কাজ করছেন। মিশ্র টিকার কার্যকারিতার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।

প্রমাণ ছাড়া হাইব্রিড টিকার ধারণা অপরিণত। তবে এমন নয় যে এ রকম ঘটনার নজির নেই। সিডিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এর আগে বলেছেন, একই প্রতিষ্ঠানের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সম্ভব না হলে সহজলভ্য অন্য টিকা দিয়ে কোর্স শেষ করতে হবে।
সাদ ওমর, টিকা বিশেষজ্ঞ
করোনাভাইরাসের নতুন সংক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তাঁরা যতটা সম্ভব বেশি মানুষকে টিকা দিতে চান। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার আগামী দুই সপ্তাহের জন্য লন্ডনের স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে জরুরি হিসেবে ফাইজার ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিজ্ঞানীরা বলছেন, একই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত টিকা দিয়েই দুটি ডোজ শেষ করার চেষ্টা চালানো হবে। তবে যদি প্রথম ডোজটি কোন প্রতিষ্ঠানের নেওয়া হয়েছে তা জানা না থাকে অথবা সহজলভ্য না হয়, তাহলে বিকল্প টিকা দেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য পণ্য দিয়ে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া যেতে পারে। উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের এভাবে টিকা প্রয়োগের সুপারিশ করেছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা।

জানতে চাইলে পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের কর্মকর্তারা বলেন, ফাইজার ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার মধ্যে মিল রয়েছে। মিশ্র টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ এ বছরের যেকোনো সময় শুরু হতে পারে বলে তাঁরা জানান।

যুক্তরাজ্যের কয়েকজন বিজ্ঞানী জুয়া খেলার মতো কাজ করছেন। মিশ্র টিকার কার্যকারিতার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
জন মুরে, টিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ
ফাইজারের মুখপাত্র স্টিভেন ডানেহি বলেন, বিকল্প টিকার ডোজ বিবেচনার বিষয়টি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের। ফাইজার মনে করে, সর্বোচ্চ সুরক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ টিকা কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেবে।

ফাইজার এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা শরীরে স্পাইক নামক একটি প্রোটিন তৈরি করে। এটি নিজে সংক্রামক নয়, তবে করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে প্রতিরোধক কোষগুলোকে সক্রিয় করতে পারে।তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টিকা বিভিন্ন উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সব টিকার উপাদানও এক থাকে না। তাই যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ধন্দ বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যের এ টিকাসংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন বলেন, মডার্না ও ফাইজারের টিকা মেসেঞ্জার আরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি। আর অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ভাইরাল ভেক্টর প্রযুক্তিনির্ভর। এর সঙ্গে রাশিয়ার স্পুটনিক টিকাটির মিল আছে। যদি একে অপরের পরিপূরক হয়, তবে তা সত্যি খুব সাশ্রয়ী হবে। তবে এর কার্যকারিতা জানতে বিস্তর গবেষণা দরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়ালে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা বিশেষজ্ঞ সাদ ওমর বলেন, প্রমাণ ছাড়া হাইব্রিড টিকার ধারণা অপরিণত। তবে এমন নয় যে এ রকম ঘটনার নজির নেই। সিডিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এর আগে বলেছেন, একই প্রতিষ্ঠানের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সম্ভব না হলে সহজলভ্য অন্য টিকা দিয়ে কোর্স শেষ করতে হবে।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
আরও সংবাদ পড়ুন