ঢাকা, ১৪ এপ্রিল বুধবার, ২০২১ || ১ বৈশাখ ১৪২৮
 নিউজ আপডেট:

 প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন সমূহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও

ক্যাটাগরি : রাজনীতি প্রকাশিত: ১০৫৪ঘণ্টা পূর্বে


 প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন সমূহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও গ্রেফতারকৃত ৭ ছাত্র নেতার মুক্তির দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করেছে  প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন সমূহ।


আজ(১ মার্চ) সোমবার সকাল ১২ ঘটিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্য্যালয়ের টিএসসি থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শহীদ মিনার হয়ে সচিবালয়ের দিকে মিছিল এগোতে চাইলে শিক্ষা অধিকার চত্ত্বরে পুলিশ বাঁধা দেয়। বাঁধা উপেক্ষা করে সচিবালয়ের সামনে গেলে পুলিশ আবার বাঁধা দেয় এবং পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এসময়ে বেশ কয়েকজন  নেতা-কর্মী আহত হয় ও এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত করে ।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী সভাপতি ইকবাল কবিরের সভাপতিত্বে,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন  সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সভাপতি মাসুদ রানা,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সভাপতি আল-কাদেরি জয়, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি গোলাম মোস্তফা ,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন প্রিন্স, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক দীপক শীলসহ প্রমুখ।


সমাবেশ এ নের্তৃবৃন্দ বলেন, এই ভয়ের রাজনীতির আপাতত ক্ষতির একটা প্রধান শিকার কিশোর-তরুণ সমাজ।আর সেই তারুণ্য কখনোই যেন ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে, তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখবার, তার মনোযোগ যেন কিছুতেই ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ দিকে ধাবিত না হয়, তার সকল আয়োজন গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করে রাষ্ট্র। আর যারা এখনো তরুণ্যকে সংগঠিত করবার চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য তৈরি হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো নতুন নতুন নিপীড়নমূলক আইন। আইন প্রতিষ্ঠারো তো যুক্তি আর বৈধতা তৈরি করা লাগে। তার জন্য নিয়োজিত আছেন রাষ্ট্রের পোষা বুদ্ধিজীবীগণ! ।  একইভাবে আমরা দেখলাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মারপ্যাঁচে গ্রেফতার করা হয়েছিলো লেখক মুশতাক আহমেদ কে । এই বিষাক্ত সাপের ছোবল খেয়েছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। কিছু দিন পূর্বে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া  এর শিক্ষার্থী জিকে সাদিককে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এহেন ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে।

তারা বলেন, মুখে যত গণতন্ত্রের কথাই বলা হোক না কেন, রাষ্ট্রীয় কোনো সিদ্ধান্ত, সরকারদলীয় কারো কোনো অপকর্মের কোনো সমালোচনা করা যাবে না। যা সারা পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে বিরল!

তারা আরোও বলেন, যারা এই জং ধরা রাষ্ট্র যন্ত্রের  মেরামত ও  ঘুনে ধরা সিস্টেমের পরিবর্তন করতে চায়। তারা যদি প্রতিবাদে সোচ্চার হয় তবে আমাদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে পারবেনা কেউ। এই নিপীড়নমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একদিন অবশ্যই বাতিল হবে। গ্রেফতারকৃত ৭ ছাত্র নেতার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন।

বক্তারা অবিলম্বে কারাবন্দি অবস্থায় রাষ্ট্রীয় হত্যার শিকার লেখক মুশতাক আহমেদের হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেন।

একই সাথে সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এই নিবর্তনমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান এবং এই আইনে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দাবি করেন। 

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
আরও সংবাদ পড়ুন