ঢাকা, ১৭ মে সোমবার, ২০২১ || ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
 নিউজ আপডেট:

সাংগঠনিক সম্পাদক ও গুরুত্বপূর্ণ পদ পরিবর্তন করে ছাত্র ইউনিয়নের বিদ্রোহী অংশের কমিটি ঘোষনা

ক্যাটাগরি : রাজনীতি প্রকাশিত: ৮৩১ঘণ্টা পূর্বে


সাংগঠনিক সম্পাদক ও গুরুত্বপূর্ণ পদ পরিবর্তন করে ছাত্র ইউনিয়নের বিদ্রোহী অংশের কমিটি ঘোষনা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বর্তমান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক দীপক শীলকে সাধারণ সম্পাদক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মিখা পিরেগুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ছাত্র ইউনিয়নের রিকুইজিশনপন্থী গ্রুপটি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে। 

 

আজ (১২ এপ্রিল) সোমবার সকাল ১১ টায় রাজধানীর পল্টনস্থ পল্টন কমিউনিটি সেন্টারের জরুরি সম্মেলন অনুষ্ঠিত  হয়।   

 

উল্লেখ্য, ছাত্র ইউনিয়নের সংকটের শুরু গত বছরের ১৯ নভেম্বর ৪০তম জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। ওই সম্মেলেনে ফয়েজ উল্লাহকে সভাপতি ও দীপক শীলকে সাধারণ সম্পাদক  ও সুমাইয়া সেতুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৪১ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন হয়। সংগঠনের একাংশের দাবি, ওই সম্মেলনে একাধিক গঠনতান্ত্রিক ব্যত্যয় ঘটেছে। এরপরই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় সংগঠনটিতে।

 

এরপরই শুরু হয় সংগঠনটির বর্তমান কমিটি ও গঠনতন্ত্রের ব্যাতয় কেন্দ্রীক নেতাকর্মীদের মধ্যে টানা পড়েন। একাধিকবার সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও চেষ্টা সফল হয়নি। 

 

পরবর্তীতে ফেসবুকে একে অপরের নিন্দা ও অগঠনতান্ত্রিক আচরনের দায়ে ঢাকা মহানগর ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি ভেঙ্গে দেয় বর্তমান কমিটি। একইসাথে ঢাকা মহানগর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতিসহ ৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়।

 

এরপর সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে সমস্যা বৃদ্ধি পায়। ফলে সংগঠনটির ঢাকা মহানগর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের একাংশ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে নতুন সম্মেলনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হন। 

 

তাঁরা বলছেন, সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুসারে কাউন্সিলরদের এক তৃতীয়াংশ সই করলে ২১ দিনের মধ্যে নতুন করে কাউন্সিল আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বেশ কয়েকটি সই জাল- এমন অভিযোগ এনে সম্মেলনের দাবি খারিজ করে দেয় কেন্দ্রীয় বর্তমান নেতৃত্ব।   এর সূত্র ধরেই ২৮ মার্চ বিদ্রোহী অংশ ১২ এপ্রিল সম্মেলনের ডাক দেয়। সহকারী সাধারণ সম্পাদক তামজীদ হায়দার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জরুরি সম্মেলন ১২ এপ্রিল। কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জয় রায়কে চেয়ারম্যান করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট  সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদ গঠন করা হয় এবং পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ(১২ এপ্রিল) ২০২১ তারিখে একাংশের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

আজ অনুষ্ঠিত সম্মেলন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ (১২এপ্রিল ২০২১ ইং তারিখে) বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কোন কর্মসূচী ছিলো না। গতকাল সম্পাদক মন্ডলী সভায় এ সিধান্ত নেয়া হয়। যারা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে এহেন কর্মকান্ড চালিয়েছে তারা যদি ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য হয়ে থাকেন তবে অতি শীঘ্রই প্রচলিত রীতি অনুযায়ী  ব্যবস্হা নেয়া হবে।

 

তিনি আরোও বলেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সম্মেলন অনুষ্ঠিত  হয় কেন্দ্রীয় কমিটির সভা ও জাতীয় পরিষদ সভা হতে আলোচনার প্রেক্ষিতে এবং উৎসব মুখর পরিবেশে।

 

জরুরি সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান জয় রায় মিখা পিরগু সম্পর্কীত প্রশ্নের জবাব না দিয়ে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।

 

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু বলেন, মিখা পিরেগুর বিরুদ্ধে অভিযোগটি বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদ অবহিত এবং তৎক্ষনাৎ তাকে তার দায়িত্ব (জাবি সভাপতি) থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। অতি শিঘ্রই সভার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত প্রমানের প্রেক্ষিতে সেই মোতাবেক দ্রুত ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।

 

গত ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১ তারিখে প্রকাশিত স্বাক্ষর ও সিলমোহর জালিয়াতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মিখা পিরেগুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয়েছে। মিখা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

 

বহিষ্কারের দাপ্তরিক আদেশ গণমাধ্যমের কাছে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজের এই বহিষ্কারাদেশে সই করেন গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষ পরীক্ষার জন্য করা আবেদনে বিভাগীয় সভাপতির স্বাক্ষর ও সিলমোহর জালিয়াতিসংক্রান্ত গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া হয়।

এর পর পরই  গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের এক জরুরি সভায় তুষার ধরকে সভাপতি করে মিখা পিরেগুকে তার সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়।

 

সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ছাড়াও যাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে তারা হলেন: সহ-সভাপতিঃ নজির আমিন চৌধুরী জয়, সুমাইয়া সেতু,তাসীন মল্লিক, কে এম মুত্তাকী,আবু সালেহ শিহাব, অনন্য ইদ ই আমিন,শম্পা দাস,সরোজ কান্তি

সহ-সাধারণ সম্পাদকঃরাগীব নাঈম, তামজীদ হায়দার চঞ্চল,মাহির শাহরিয়ার রেজা

 

কোষাধ্যক্ষঃ বিল্লাল হোসেন,দপ্তর সম্পাদকঃ রাকিবুল রনি,শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদকঃ মীম আরাফাত মানব,প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকঃ জাহিদ জামিল, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সম্পাদকঃ সাদাত মাহমুদ, স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদকঃ জাওয়াদুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদকঃ শুভ বনিক,ক্রীড়া সম্পাদকঃ শিমুল কুম্ভকার, সমাজকল্যাণ ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকঃ মুনিরা দিলশাদ ইলা।

 

সদস্যঃ সাদ্দাম হোসাইন,আবু বক্কর সিদ্দিক,প্রান্ত রনি,এনি সেন,গৌরচাঁদ ঠাকুর,পার্থ প্রতীম সরকার,পিনাক দেব,প্রণব কুমার দেব,অপু সাহা এবি তাহসিন,সৌরভ সমাদ্দার,রথীন্দ্রনাথ বাপ্পী,আবরার নাদিম ইতু,জি কে সাদিক,খায়রুল হাসান জাহিন,জয় রায়,মেহেদী হাসান নোবেল,অনিক রায়।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
আরও সংবাদ পড়ুন