ঢাকা, ৩০ নভেম্বর মঙ্গলবার, ২০২১ || ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
 নিউজ আপডেট:

চাঁদপুরে মা ও শিশু হাসপাতালে বাণিজ্যের বলি জিতু বেপারি! ১লক্ষ টাকা রফাদফা

ক্যাটাগরি : বাংলাদেশ প্রকাশিত: ৫০৭১ঘণ্টা পূর্বে


চাঁদপুরে মা ও শিশু হাসপাতালে বাণিজ্যের বলি জিতু বেপারি! ১লক্ষ টাকা রফাদফা

 

আলমগীর বাবু : চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ  

চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থিত মা ও শিশু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৯নং উঃ গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মোঃ স্বপন বেপারির ছেলে মোঃ জিতু বেপারিকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে হাসপাতালে ব্যাপক ভাংচুর চালায় রোগীর স্বজনরা। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে ওই ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান সাঈদ সরকার মধ্যস্থতা করে ১ লক্ষ টাকা রফাদফা করেন।
জানা যায়, গত বুধবার ( ২৮ এপ্রিল'২১ খ্রিঃ) রাত ১টার সময় পেট ব্যাথা নিয়ে মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করেন ওই রোগীর স্বজনরা। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল'২১ খ্রিঃ) সকাল বেলা হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে রোগীর নাড়িভুঁড়ি প্যাচিয়ে গেছে এখন অপারেশন করা ছাড়া তাকে সুস্থ্য করা যাবেনা মর্মে রোগীর অভিভাবকদের স্বাক্ষর সুকৌশলে নিয়ে নেয়। এরপর রোগীকে অপারেশন রুমে পেট কেটে ফেলে। এরপর ওয়ার্ডে নিয়ে চিকিৎসা চালায় ওই রুগীর। পরবর্তীতে রুগীর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন মৃত জিতু বেপারীর পরিবারের লোকজন।জিতুর বোন রুনা আক্তার জানায়, বাড়িতে থাকা অবস্থায় কয়েকদিন যাবত জিতুর প্রচন্ড পেট ব্যাথা হয়। পরে আমরা গ্রাম্য ডাক্তার সাইফুল ইসলাম (বাবু) র কথা অনুযায়ী চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের মা ও শিশু হাসপাতালে  ভর্তি করাই। ডাঃ বাবু জানায় জরুরি ভিত্তিতে জিতুর অপরেশন করতে হবে, তার পেটের নাড়ি-ভুড়ি প্যাচিয় ছিদ্র হয়ে গেছে। ৩০ হাজার টাকা লাগবে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে তার অপারেশন করা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে জিতুর জ্ঞান ফিরে ও শনিবার রাত থেকে সে কালো বর্ণের হয়ে যায়। জিতুর অপারেশন করতে গিয়ে তারা নাড়ি ভুড়ি কেটে ফেলে। সেই যন্ত্রনায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন।
জিতুর পিতা স্বপন বেপারী জানায়, আমার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে জিতু সবার বড়। আমি এ হাসপাতালে অপরেশন করতে রাজি হই নাই। গ্রাম্য ডাক্তার সাইফুল ইসলাম (বাবু) আমাকে বলছে এখানে ভালো অপারেশন হয়, চিন্তা করার কিছু নেই।হাসপাতালের পরিচালক মোঃ মহসীন সর্দার জানায়, আমরা অপারেশন করার পূর্বে সম্মতিপত্রে তাদের স্বাক্ষর নিয়েছি। আর অপারেশন হয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, আজকে তাকে রিলিজ দেওয়ার কথা ছিল। স্বজনরা রোগীর জ্ঞান ফিরলে অক্সিজেন খুলে কথা বলতে চায়, নার্স কে না বলে পানি খাওয়ায়।এই হাসপাতলে অতীতেও ভুল চিকিৎসায় ডাক্তারের অবহেলায়  কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায়  রোগী মারা গেছেন। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়  মা ও শিশু হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন নেই। তাই সচেতন মহল দাবী  করেন মা ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসায় অনিয়ম এইসব বিষয়ে চাঁদপুর সিভিল সার্জন জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি  কামনা করছেন।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
আরও সংবাদ পড়ুন