ঢাকা, ১৩ জুন রবিবার, ২০২১ || ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
 নিউজ আপডেট:

কলারোয়ায় সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান

ক্যাটাগরি : বাংলাদেশ প্রকাশিত: ৯০২ঘণ্টা পূর্বে


কলারোয়ায় সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান

 সেলিম খান

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

কলারোয়া উপজেলার খাদ্য গুদামে কৃষকদের লাইন পড়েছে। অন্য বার যেখানে বিভিন্ন বয়সের দালালরা ভীড় করে থাকত বর্তমানে সেখানে গত ১৮/১৯ দিন ধরে প্রন্তিক চাষিরা জায়গা দখল করে সরকারের কাছে সরাসরি ধান বিক্রি করছেন।

 ধান চাল গম সংগ্রহ অভিযান চলাকালে জেলার প্রতিটি উপজেলার খাদ্য গুদামে কম বেশী দূর্নীতির খবর পাওয়া গেলেও এবারই প্রথম দালাল মুক্ত অবস্তায় কলারোয়া খাদ্য গুদামে কৃষকরা সরাসরি গুদামে ধান বিক্রি করছেন।

দেয়াড়া গ্রামের প্রন্তিক কৃষক গোলাম রসুল জানান, বিগত বছরগুলোতে ক্ষমতাশীন দলের নেতা, ফড়িয়া, মাহাজন বা মুনাফাখোররা কৃষকের ধান সিন্ডিকেট করে কম দামে কিনে নিজস্ব গুদাম জাত করে রাখত। পরে সরকার সংগ্রহ অভিযান শুরু করলে তারা বেশী দামে দালালদের মাধ্যমে গুদামে ধান বিক্রি করে লাভবান হয়েছে। কিন্তু বছর প্রথম বারের মতো সরকার কৃষি কার্ডের তার পর লটারী মাধ্যমে গুদামে ধান বিক্রি করার ঘোষনা দেয়ায় সে মোতাবেক কৃষকরা সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারছেন।

গয়ড়া গ্রামের ফারুক হোসেনসহ অনেকেই হাসি মুখে জানান, তারা এবার নায্য মূল্যে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেছেন। কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষক কার্ড সংগ্রহ করায় গুদামের কোন কর্মকর্তা বা মধ্যসত্ব ভোগী কোন দালাল এবার সুবিধা করতে পারেনি।

 সরকারের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে কৃষকরা আরো বলেন, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরুর পর থেকে উপজেলার বর্গাচাষিরাও গুদামে সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে পারছেন।

বর্গাচাষী কেরালকাতা ইউনিয়নের কেরামত আলী জানান তার নিজের কোন জমি নেই। তিনি পরের জমি লীজ নিয়ে ধান চাষ করেন। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তার খুব বেশী লাভ হয় না। এবার উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় কৃষি কার্ড করে তিনি তিন মে:টন বিআর-২৮ জাতের ধান সরকার নির্ধারিত মূল্যে গুদামে বিক্রি করেছেন। টাকা পেতেও কোন ঝামেলা হয়নি তার। মাত্র ১০ টাকার এ্যাকাউন্টে তার প্রাপ্য টাকা প্রদান করা হয়েছে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলস উৎপাদনের পর নায্য মূল্যে সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারায় তিনি বেজায় খুশি।

 তিনি আগ্রহ সহকারে বলেন, কোন দালাল বা গুদামে ঘুষ না দিয়েই উৎপাদিত ফসলের নায্য মূল্য প্রপ্তিতে আগামীতে ফলস উৎপাদনে কৃষকরা আরো উৎসাহিত হবে।

  ছাড়া তিনি আরো বলেন, কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিস সরকারের নিয়ম ভঙ্গ না করায় তারা সরাসরি ধান বিক্রি করতে পারছে।

 কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক বছর প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি কার্ড দিয়ে খাদ্য গুদামে কৃষকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছে। উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা সঠিক ভাবে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে দিতে পেরেছে।

 কলারোয়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ওসি এল এস ডি আমিনুউদ্দীন জানান, গত ২৮শে এপ্রিল থেকে সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ৩০ আগষ্ট মাস পর্যন্ত। উপজেলার পৌর সদরসহ ১২ টি ইউনিয়নের কৃষকের নিকট থেকে মোট ১৭৯২ মে:টন ধান সংগ্রহ করার লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। গত ১০ দিনে কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই ১৫০ মে:টন ধান কৃষকরা সরাসরি গুদামে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করেছেন।

 তিনি বলেন, প্রতিদিন কৃষকরা তাদের চাষকৃত ধান নিয়ে খাদ্য গুদামে নিয়ে আসছেন এবং নায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে পেরে সব প্রান্তিক কৃষকরা হাসি মুখে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

 তিনি আরো জানান, উপজেলা কৃষি অফিসার যে সব কৃষকের কৃষি কার্ড প্রদান তা থেকে লটারি মাধ্যমে প্রাপ্ত কেবল মাত্র সেই কার্ড ধারী কৃষকদের নিকট থেকেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

 তিনি বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে কলারোয়া উপজেলায় বছর ধান সংগ্রহ অভিযান চলছে।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
আরও সংবাদ পড়ুন