ঢাকা, ১৩ জুন রবিবার, ২০২১ || ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
 নিউজ আপডেট:

কর্মসংস্থানমুখী উন্নয়ন বাজেটের দাবিতে যুব ইউনিয়নের বিক্ষোভ

ক্যাটাগরি : রাজনীতি প্রকাশিত: ৮৩০ঘণ্টা পূর্বে


কর্মসংস্থানমুখী উন্নয়ন বাজেটের দাবিতে যুব ইউনিয়নের বিক্ষোভ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কর্মসংস্থানমুখী উন্নয়ন বাজেটের দাবিতে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ(৯ মে) রবিবার বিকাল সাড়ে ৪ ঘটিকায় পুরানা পল্টন মোড়ে কর্মসংস্থানমুখী উন্নয়ন বাজেটের দাবিতে দেশব্যাপী যুব ইউনিয়নের বিক্ষোভ কর্মসুচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন সভাপতি যুবনেতা রিয়াদ  বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে নিম্ন মধ্যবিত্ত সমাজের দরিদ্র সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সামনে জীবন-জীবিকার সংকটে। এই মুহূর্তে বৃহত্তর তরুণ যুব জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি অন্যতম একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০১৯ এর প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে বেকারত্বের হার .৯৯ শতাংশ। তবে যুবসমাজের বেকারত্বের হার ১১. শতাংশ, জাতীয় গড়ের আড়াইগুণেরও বেশি। মোট বেকারত্বের মধ্যে বেকার যুবকদের সংখ্যা ৭৯. শতাংশ। ২০১৯ সালের বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতি তিনজন স্নাতকের মধ্যে একজন বাংলাদেশে বেকার রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সরকার সেই দিকে যথাযথ দৃষ্টি না দিয়ে বন্ধ্যা প্রবৃদ্ধি সৃষ্টিতে আগ্রহী। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও, কর্মসংস্থান সমস্যা সমাধানে তা সাফল্য দেখাতে পারেনি। যে উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় নাতা যতই চকচকে হোক না কেন, প্রকারন্তরে তা ফাঁপা এবং সরকারের ব্যর্থতাকে আড়ালের অপকৌশল মাত্র।

তিনি আরো বলেন,গত বছর করোনার অভিঘাতে চাকরিচ্যুত হয়েছিলো শতকরা ৩৬ জন মানুষ। অনেকের চাকরি থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত বেতন-ভাতা পান নি।  করোনা সংকটে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই বিপদগ্রস্ত আছে এখনো।  কোভিড-১৯ এর কারণে নতুন করে দারিদ্র্য বাড়ছে। বিআইডিএস বলছেনতুন কোটি ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কাতারে যুক্ত হয়েছে। অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ বা মন্দার কারণে জনগণের চাকরির ক্ষতি হচ্ছে, নিয়মিত বেতন না পাওয়া, কম বেতন পাওয়া বিশেষ করে বেসরকারী চাকুরিজীবীদের বেলায় এমনটি ঘটছে। অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ গ্রামে ফিরে গেছেন সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পেরে। চাকরির বাজার হ্রাস পাবার কারণে অনেক তরুণকে হতাশার মধ্যে ফেলেছে। তরুণ চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে (নিউ নরমাল সিচুয়েশন) তীব্র উদ্বেগ এবং চাকরির বাজারে কোভিড-১৯ প্রভাব নিয়ে সময় আলোচনা করে সময় কাটাতে দেখা যায়।আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জন্য আমাদের প্রয়োজন পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ প্রদান করা। আমাদের একটি গণমুখি এবং কর্মমুখি বাজেট প্রণয়ন করা জরুরি। যুব সেই দাবিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

 

যুব ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, করোনার প্রথম চার মাসেই বেকারত্ব বেড়েছিলো ১০ গুণ। আর্থিক সংকটে পড়া ৪৬ দশমিক ২২ শতাংশ পরিবার সঞ্চয় ভেঙে এবং ৪৩ শতাংশের বেশি পরিবার আত্মীয়স্বজনের সাহায্য-সহায়তার ওপর নির্ভর করে সংসার চালিয়েছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা শ্রমবাজারের জন্য দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত দক্ষ কর্মীদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম নয়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পড়াশোনা বিশেষ দক্ষতার অভাবে পড়াশুনা সম্পন্ন তরুণ-তরুণীদের চাকরির বাজারের চাহিদা মেটাতে পারছে না। কলেজের স্নাতকদের মধ্যে মাত্র ১৯ শতাংশই পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন কর্মরত, প্রায় অর্ধেক বেকার রয়েছে। অধিকন্তু, যুব নারী গ্র্যাজুয়েটদের বেকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি এবং স্নাতকোত্তর হওয়ার দুই বছর পরে দেখা গেছে নারী স্নাতকদের ৩৩ শতাংশ পুরুষ স্নাতকের বিপরীতে বেকার রয়েছেন বলে বিভন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  যুবকদের বেকারত্বকে অর্থনীতির একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি আমাদের বিভিন্ন নীতিমালাগুলোতে। জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনোযোগ দেয়া হয়নি। নীতিমালায় তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও কোন কার্যকর পরিকল্পনা নেই।

 

আমরা বেকারত্বের অভিশাপ দেখতে চাই না, আমরা যুবকদের হতাশ দেখতে চাই না, আমরা যুবকদের উদ্যোগী হিসেবে দেখতে চাই। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য নতুন চাকুরি সৃষ্টি করা বা কর্মসংস্থানের উদোগ গ্রহণের জন্য বাজেটে একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখা এখন সময়ের দাবি। বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়ে বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি কার্যকর উপায় বের করতে হবে বলে দাবি জানান তারা।

 

 

বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন  কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম জুয়েল, সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল, জাহাঙ্গীর আলম  নান্নু, সহসাধারণ সম্পাদক হাবিব ইমনঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি গোলাম রাব্বি খান, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আজিমসহ প্রমুখ।

 

 

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
আরও সংবাদ পড়ুন