ঢাকা, ১ আগস্ট রবিবার, ২০২১ || ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮
 নিউজ আপডেট:

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে

ক্যাটাগরি : মতামত প্রকাশিত: ১৬২৫ঘণ্টা পূর্বে


ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে

 

ইমরান হুসাইন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে বোঝায় মানবসৃষ্ট নয় এমন দুর্ঘটনা, যা মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। প্রতিবছর বাংলাদেশে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে। এসব দুর্যোগে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে ব্যাপক। প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দোলাচলে ভবিষ্যৎ সংকটে ভোগে সাধারণ মানুষের জীবন। ঠিক তেমনি করোনার পাশাপাশি বর্তমান সময়ে খুবই স্বল্প সময়ে জনমনে এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘূর্ণিঝড় "ইয়াস।" ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের তীব্রতা এত বেশি হয় যে কখনো কখনো তা ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যায়। প্রতিবছরই এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বরে বাংলাদেশে ছোটো-বড়ো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। প্রবল শক্তিসম্পন্ন এ ঝড়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল এবং সমুদ্রতীরবর্তী দ্বীপসমূহ।
 ঘূর্ণিঝড় আপ্পানের ক্ষত এখনও শুকায়নি সারাদেশে। যেসব অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় আপ্পান আঘাত হেনেছিলো সেসব অঞ্চলের মানুষেরা এখনও এর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে নি।আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মানুষদের স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ নির্মাণের আবেগস্পর্শী ছবি দেখেছে মানুষ। আতঙ্কের কথা, আম্পান যে স্থানের ওপর দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করেছিল, প্রায় একই স্থান (সাতক্ষীরা, খুলনা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূল) দিয়ে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি প্রবেশ করতে পারে।একদিকে করোনা অন্যদিকে এমন প্রাকৃতিক দূর্যোগ যার যাতাকলে পৃষ্ঠ হবে সাধারণ জনজীবন যদি না ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় আগ থেকেই কার্যকর বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।দূর্যোগ প্রবন এলাকার মানুষের কথা ভাবতে হবে।তাদের স্বাভাবিক জীবনে যাতে কোন প্রকার ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। 

প্রতিবেদনে দেখা যায়  উত্তর আন্দামান সাগরে তৈরি হচ্ছে এই ঘূর্ণিঝড়। তবে এর নাম নিয়ে বেশ আলোচনা বা দ্বিমত হচ্ছে কিছু জায়গায় যশ আবার কিছু জায়গায় ইয়াস নাম দেখা যাচ্ছে তবে দুইটার মানে একই ‘দুঃখ’। ওমানের দেওয়া এই নামটি পারসি ভাষা থেকে এসেছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ২৫ মে থেকে উপকূলবর্তী জেলাগুলোয় আছড়ে পড়তে পারে ইয়াস। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি নিন্মচাপ তৈরি হয়েছে।২৩ শে মে এটি আরও শক্তিসঞ্চয় করে পরদিন উত্তর ও উত্তর -পশ্চিম দিকে অগ্রেহয়ে আরও তীব্র ঘূর্ণিঝড় রুপ নেবে।বুঝবার সব্ধ্যায় উড়িস্যা -পশ্চিমবঙ্গ- বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌছাতে পারে।আলীপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস কোথায় আছড়ে পড়বে, তা এখনো স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে পশ্চিমবঙ্গেই ঘূর্ণিঝড়ের আছড়ে পড়ার শঙ্কা বেশি। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ২৬ মে সন্ধ্যার দিকে ইয়াস পশ্চিমবঙ্গ, সংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা এবং বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করবে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূল খুলনা অঞ্চলেও আঘাত হানতে পারে বলে বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইয়াসের প্রকৃত অবস্থান এবং বাতাসে ঘণ্টার গতিবেগ কেমন হবে, তা  নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আবহাওয়া অফিসের প্রাথমিক ধারণা, ইয়াস উপকূল হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বেরিয়ে যাবে। এটির উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের উপকূল থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এটি পরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ২৬ মে নাগাদ এটি উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছাতে পারে। (২২ মে) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও রংপুর বিভাগের দুয়েক জায়গায় এবং কুষ্টিয়া, কুমিল্লা অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

ইতিমধ্যে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আর বঙ্গোপসাগরে
অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা
হয়েছে। সেইসঙ্গে গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে ২৩ মের মধ্যে
উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। শুধু এই নির্দেশনাতেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না উপকূলগুলোতে বিশেষ নজরদারি করতে হবে।যেনো কেউ সরকারি নির্দেশনা অমান্য না করে। 

 আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে সেসব অঞ্চলের মানুষদের অধিক সচেতন হতে হবে।দূর্যোগে যেনো কোন প্রকার জানমালের ক্ষতি না হয় সেদিকে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সকলে নজরদারি বাড়াতে হবে অধিক পরিমাণে। সেই সাথে দূর্ঘটনা প্রবন এলাকার সকল জনগণ ও গৃহপালিত পশুদের নির্দিষ্ট আশ্রায়ণ প্রকল্পে স্থান করতে হবে। কোন ব্যক্তি যেনো আশ্রায়ণের বাইরে না থাকে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আশ্রায়নের প্রত্যেককে সুরক্ষিত থাকতে হলে জনগণকে অধিক পরিমাণে সচেতন হতে হবে।তাহলেই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতাতার ফলে ঘূর্ণিঝড় ইয়াশ আমাদের তেমন ক্ষতি করতে পারবে না। 

 

লেখকঃইমরান হুসাইন 
শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় 
imranhossain64.bd@gmail.com

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
আরও সংবাদ পড়ুন
Search

সারাদেশের সংবাদ