ঢাকা, ২২ অক্টোবর শুক্রবার, ২০২১ || ৭ কার্তিক ১৪২৮
 নিউজ আপডেট:

সমন্বয়হীনতার লকডাউন

ক্যাটাগরি : মুক্তমত প্রকাশিত: ১৯০৮ঘণ্টা পূর্বে


সমন্বয়হীনতার লকডাউন

 

মোহাম্মদ ইয়াসিন ইসলাম 

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত দেশবাসী। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে ত্রাস ছড়াচ্ছে ভারতীয় ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট। প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে নগর, মহানগর ও শহরাঞ্চলে সংক্রমণ ছড়ালেও এইবার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর অধিকাংশই গ্রামের। সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষণা করেছে কঠোর লকডাউন।

লকডাউন দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের চরম সমন্বয়হীনতার দৃশ্য দেখা যায়। ঈদুল আযহার আগে চলা কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয় ১৪ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত। ২৩ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে আবার কঠোর লকডাউন যা চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনে বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে সকল গার্মেন্টস এবং শিল্পকারখানাগুলোতে।

 তবে হঠাৎ করে ৩০ জুলাই মন্ত্রীপরিষদের এক প্রজ্ঞাপনে ১লা আগস্ট থেকে গার্মেন্টস খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। গার্মেন্টস খোলার খবরে ঢাকামুখী মানুষের চাপ বাড়ে দেশের মহাসড়কগুলোতে। তবে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে চলছে না দুরপাল্লার কোনো বাস। ফলে কর্মস্থলে ফিরতে এসকল পোষাক শ্রমিকদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। করোনা সংক্রমণের তীব্র ঝুঁকি নিয়ে এইসকল পোশাক শ্রমিকরা পাড়ি জমাচ্ছেন ঢাকায়। পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপসহ অটোরিকশা ও রিকাশা আবার কোথাও পায়ে হেঁটেও কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করে এইসকল মানুষ। এখানেই লকডাউনের চরম সমন্বয়হীনতা দেখা যায়। 

কলকারখানা ও গার্মেন্টস খুলে দিলে ঈদে গ্রামে যাওয়া শ্রমিকরা আবার রাজধানীতে ফিরে আসবে এটা সহজেই অনুমেয়। তবে তাদের ফিরে আসার পথ রুদ্ধ করে ফেরানোর প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার উর্ধে। স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ৩১ তারিখ সারাদিন ভোগান্তির চরম পর্যায় দেখে কর্মস্থলে ফেরার পরে গভীর রাতে ঘোষণা আসে দুরপাল্লার বাস এবং লঞ্চ পরদিন দুপুর ১২ টা অবধি চলাচলের। তবে এক্ষেত্রেও দেখা যায় সমন্বয়হীনতা। মাঝরাতের ঘোষণায় পরের দিন ১২ টার মধ্যে রাজধানীতে প্রবেশ অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। তাছাড়া বেশিরভাগ দুরপাল্লার লঞ্চ বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে ছাড়ে ফলে এই সুবিধা যে আদৌ কোনো কাজে আসবে না তা সহজেই অনুমেয়।

করোনার সংক্রমণে শিখরে দেশ। প্রতিদিন ভাঙ্গছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পূর্বের সব রেকর্ড। এমন সময় লকডাউন বা যেকোনো সিদ্ধান্তই হোক জনবান্ধব এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। লকডাউন এবং দেশের সামগ্রিক অবস্থার মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে এবং সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। নতুবা সরকারের দেয়া বিধিনিষেধের কার্যকরী এবং কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

লেখকঃ মোহাম্মদ ইয়াছিন ইসলাম
শিক্ষার্থী,সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম,জবি শাখা
ই-মেইলঃ yasinislam3377@gmail.com

শেয়ার করুনঃ
আপনার মতামত লিখুন:
আরও সংবাদ পড়ুন
Search
সিরাজগঞ্জে দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে আটক    মাসুদ রানা সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতি নিধি ঃ   সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে দু’টি রিভলবার, গুলি ও দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্রসহ ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-১২ সদস্যরা। এ সময় ছিনতাই হওয়া একটি মাইক্রোবাসও উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৮ অক্টোবর) রাতে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে ও বগুড়া পৌর এলাকার ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ডাকাত সদস্যরা হলো, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার শৈলজানা গ্রামের মৃত মোকছেদ আলীর ছেলে মো. শফিকুল আলম তুহিন (৪৪), বগুড়া জেলা সদরের ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকার বেল্লাল হোসেন (৫৮), মৃত লব ফকিরের ছেলে বুধা ফকির (৩৫) ও একই গ্রামের মৃত সেলিম প্রামাণিকের ছেলে মো. সোহাগ (২৯), বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার আটকোবিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে নান্নু মণ্ডল (৩২) এবং গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বেলাশী সরকার বাড়ী এলাকার ইসমাইল সরকার (৫৯)। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১২ এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মি. জন রানা।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত রোববার (১৭ অক্টোবর) মেয়ে দেখার নাম করে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় একদল ডাকাত। এরপর থেকে মাইক্রোবাসের চালক আমিরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন গাড়ির মালিক। পরে তিনি র‌্যাব সদর দপ্তরের সহযোগিতা চান। এরপর র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারে যে চালক আমিরুলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই গাড়ি দিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরপর মঙ্গলবার রাতে শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচজনকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাদের দেওয়া তথ্য মতে বগুড়া পৌর এলাকার ফুলবাড়ী মধ্যপাড়ায় অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে আটক করা হয়। এ দু’টি অভিযানে আটক ডাকাতদের কাছ থেকে দু’টি রিভলবার, দুই রাউন্ড গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। সেই সঙ্গে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের মিডিয়া অফিসার আরও জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে এ ডাকাত চক্রটির দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে ডাকাতি করে আসছিল। তারা গাড়ি ছিনতাইয়ের পর এর নম্বর প্লেট, জিপিএস ট্র্যাকার ও গাড়ির রঙ পরিবর্তনের মাধ্যমে দখলে নেয়। পরে ওই গাড়ি নিয়ে ডাকাতি করে থাকে।

সিরাজগঞ্জে দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে আটক মাসুদ রানা সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতি নিধি ঃ সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে দু’টি রিভলবার, গুলি ও দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্রসহ ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-১২ সদস্যরা। এ সময় ছিনতাই হওয়া একটি মাইক্রোবাসও উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৮ অক্টোবর) রাতে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে ও বগুড়া পৌর এলাকার ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ডাকাত সদস্যরা হলো, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার শৈলজানা গ্রামের মৃত মোকছেদ আলীর ছেলে মো. শফিকুল আলম তুহিন (৪৪), বগুড়া জেলা সদরের ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকার বেল্লাল হোসেন (৫৮), মৃত লব ফকিরের ছেলে বুধা ফকির (৩৫) ও একই গ্রামের মৃত সেলিম প্রামাণিকের ছেলে মো. সোহাগ (২৯), বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার আটকোবিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে নান্নু মণ্ডল (৩২) এবং গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বেলাশী সরকার বাড়ী এলাকার ইসমাইল সরকার (৫৯)। মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১২ এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার মি. জন রানা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত রোববার (১৭ অক্টোবর) মেয়ে দেখার নাম করে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় একদল ডাকাত। এরপর থেকে মাইক্রোবাসের চালক আমিরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন গাড়ির মালিক। পরে তিনি র‌্যাব সদর দপ্তরের সহযোগিতা চান। এরপর র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারে যে চালক আমিরুলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই গাড়ি দিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরপর মঙ্গলবার রাতে শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচজনকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাদের দেওয়া তথ্য মতে বগুড়া পৌর এলাকার ফুলবাড়ী মধ্যপাড়ায় অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে আটক করা হয়। এ দু’টি অভিযানে আটক ডাকাতদের কাছ থেকে দু’টি রিভলবার, দুই রাউন্ড গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। সেই সঙ্গে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের মিডিয়া অফিসার আরও জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে এ ডাকাত চক্রটির দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে ডাকাতি করে আসছিল। তারা গাড়ি ছিনতাইয়ের পর এর নম্বর প্লেট, জিপিএস ট্র্যাকার ও গাড়ির রঙ পরিবর্তনের মাধ্যমে দখলে নেয়। পরে ওই গাড়ি নিয়ে ডাকাতি করে থাকে।


সারাদেশের সংবাদ